নগরকান্দায় জমিতে বালু ভরাট নিয়ে বিরোধ থানায় অভিযোগ

 

নিজস্ব প্রতিবেদক 

ফরিদপুরের নগরকান্দায় পৈতৃক সূত্রে পাওয়া জমিতে ড্রেজার দিয়ে বালু ভরাটকে কেন্দ্র করে মারধর ও জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উপজেলার পোড়াদিয়া বালিয়া গ্রামের মো. ইখলাছ মাতুব্বর (৪৫) নগরকান্দা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে প্রতিবেশী মো. বায়েজিদ মাতুব্বর (৩৫) ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে জমিতে বালু ভরাট এবং তাঁকে ও তাঁর স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগ করা হয়েছে।

 

থানায় দেওয়া অভিযোগে ইখলাছ মাতুব্বর উল্লেখ করেন, পোড়াদিয়া বালিয়া মৌজার ৮১৫ নম্বর দাগের ৪৬ শতাংশ নাল জমির মধ্যে ৩৫ শতাংশ জমি ১৯৯০ সালের ৩০ জুনের ২৫১৪ নম্বর দানপত্র দলিলের মাধ্যমে মালিকানা লাভের পর তিনি খাজনা-খারিজসহ ভোগদখলে রয়েছেন। তাঁর দাবি, প্রতিবেশী বায়েজিদ মাতুব্বর ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন সময়ে ওই জমি দখলের চেষ্টা করে আসছেন।

 

অভিযোগে বলা হয়, গত ৪ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে বায়েজিদ মাতুব্বর ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা ওই জমিতে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু ভরাট শুরু করেন। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ইখলাছ মাতুব্বর ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে এতে প্রতিবাদ জানান।

 

ইখলাছের অভিযোগ, এ সময় বায়েজিদ মাতুব্বর ও তাঁর সহযোগীরা তাঁকে এবং তাঁর স্ত্রী মোছা. তানিয়া বেগমকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং মারধর করেন। এতে তাঁদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত ও নীলাফোলা জখম হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে তাঁদের জমি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি।

 

ইখলাছ মাতুব্বর আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পরও ওই জমিতে বালু ভরাটের কাজ অব্যাহত রয়েছে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে পুনরায় বিরোধ সৃষ্টি হলে মারামারি, সংঘর্ষ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি থানায় জানান।

 

তফসিল অনুযায়ী, জমিটি ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা থানার ১৮২ নম্বর পোড়াদিয়া বালিয়া মৌজায় অবস্থিত। সংশ্লিষ্ট খতিয়ান নম্বর ১৫৯ এবং দাগ নম্বর ৮১৫। মোট জমির পরিমাণ ৪৬ শতাংশ; এর মধ্যে ইখলাছ মাতুব্বর ৩৫ শতাংশ জমির দাবি করেছেন।

 

এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেছেন ইখলাছ মাতুব্বর। অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত বায়েজিদ মাতুব্বরের বক্তব্য জানা যায়নি। অভিযোগের সত্যতা ও জমির মালিকানা-সংক্রান্ত বিষয় যাচাই সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এখতিয়ারাধীন।